টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অনুযায়ী মাতৃমৃত্যু হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে প্রসব, প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং স্বাস্থ্যসেবার আওতা বাড়ানোর ফলে দেশে মাতৃমৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, SDG 3.1-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে বৈশ্বিক মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এর নিচে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশেও মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। WHO-এর বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মাতৃমৃত্যুর হার ২০১৫ সালের প্রতি এক লাখ জীবিত জন্মে ১৮১ থেকে ২০১৮ সালে ১৬৯-এ নেমে আসে। পরবর্তী সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির নথিতেও এই ধারাবাহিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আর্টিকেল মধ্যবর্তী বিজ্ঞাপন
মাতৃমৃত্যু কমাতে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ ও ব্যবহার বৃদ্ধি, নারীর শিক্ষা ও আয় বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা এবং উচ্চঝুঁকির গর্ভধারণ কমে আসাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থা, প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও এ অগ্রগতির অন্যতম কারণ।
বাংলাদেশের এই অগ্রগতি মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে মাতৃমৃত্যু আরও কমাতে মানসম্মত ও সবার জন্য সহজলভ্য মাতৃস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈষম্য কমানো এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে প্রসবের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
WHO-এর সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাতৃমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধরে রাখতে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে দেশগুলোকে আরও দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।





