.

শিক্ষাজীবনের শুরুটা ছিল নানা ব্যর্থতায় ভরা। নবম শ্রেণিতে ফেল করে একসময় স্কুলছাড়াও হতে হয়েছিল নরসিংদীর আল ইমরানকে। এসএসসি ও এইচএসসিতেও ফলাফল ছিল সাধারণ মানের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতা এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে একের পর এক প্রত্যাখ্যান—সব মিলিয়ে পথটা মোটেও সহজ ছিল না।

তবে ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন ইমরান। সেই অধ্যবসায়ের ফলও পেয়েছেন তিনি।

পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে নিজ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন ইমরান। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে প্লানেটারি সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি গবেষণায় নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলেন।

একপর্যায়ে সম্পন্ন করেন পিএইচডি। এরপর ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে যোগ দেন তিনি।

বর্তমানে মঙ্গলগ্রহে সম্ভাব্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিয়ে গবেষণা করছেন এই বাংলাদেশি গবেষক।

আল ইমরানের গল্প তাই শুধু সাফল্যের গল্প নয়; এটি বারবার ব্যর্থ হয়েও হাল না ছাড়ার গল্প। নবম শ্রেণিতে ফেল করা সেই শিক্ষার্থীই পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসেরা হয়েছেন, পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং এখন নাসার গবেষণাগারে মঙ্গলগ্রহ নিয়ে গবেষণা করছেন।

তাঁর জীবনের গল্প প্রমাণ করে—একটি ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ অধ্যায় নয়। চেষ্টা, ধৈর্য ও অধ্যবসায় থাকলে ব্যর্থতার পথ পেরিয়েও সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।