প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে দ্রুত বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটির সরকার এইচআইভিকে জাতীয় সংকট হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক যৌথ কর্মসূচি (UNAIDS) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ফিজিতে আনুমানিক ৯ হাজার ১০০ মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতেন এবং মাত্র ২২ শতাংশ অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
ফিজিতে বর্তমানে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে আনুমানিক একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন। UNAIDS-এর হিসাবে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটিতে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ ১২ গুণ বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
আর্টিকেল মধ্যবর্তী বিজ্ঞাপন
ফিজির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তোনিও লালাবালাভু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর অংশ হিসেবে নিডল ও সিরিঞ্জ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সংশোধনী পার্লামেন্টে তোলার কথা রয়েছে।
UNAIDS জানিয়েছে, যেসব সংক্রমণের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ধরন জানা গেছে, সেগুলোর অর্ধেকের বেশি যৌন সংক্রমণের সঙ্গে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি এইচআইভি প্রতিরোধে PrEP-সহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফিজি সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি পাঁচ সদস্যের মন্ত্রিসভা উপকমিটিও গঠন করেছে। একই সঙ্গে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও স্বাস্থ্যসেবা সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফিজি ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের প্রতিবেদনে দেশটির এইচআইভি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।





