ইউরোপে রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন করে বেড়েছে। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে পোল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন, সাইবার হামলা ও অন্যান্য কথিত ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ড নিয়ে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উদ্বেগও প্রকাশ্যে এসেছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে ড্রোন বা রকেট হামলা চালিয়ে সেটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। তার মতে, এর উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া নিয়ে দ্বিধা তৈরি করা। এটি টাস্কের বক্তব্য ও সতর্কতা; কোনো ভবিষ্যৎ হামলা ঘটবে—এমন নিশ্চিত তথ্য নয়।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কথিত হাইব্রিড হুমকি সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়া অবশ্য ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বাল্টিক অঞ্চলকে ঘিরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী সুওয়ালকি করিডোর ন্যাটোর বাল্টিক সদস্যদের সঙ্গে জোটের অন্য অংশের স্থল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সেখানে সামরিক উত্তেজনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটো দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। লিথুয়ানিয়ায় একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনা তদন্ত করা হয়েছে এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে। এসব ঘটনায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সব ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও কথিত হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন ‘কাউন্টার-হাইব্রিড প্লেবুক’ এবং একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন।